কেশবপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ

যশোরের কেশবপুরে ফারিয়া ইয়াসমিন তৃষা (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিহত তৃষা কেশবপুর পাইলট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং উপজেলার বাগদহ গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির দ্বিতীয়তলার শোয়ার ঘর থেকে তৃষার সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে নিশান (২৪) তৃষার সাথে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। নিশানের কাছে তৃষার সাথে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছিল, যা দিয়ে সে এতদিন ভয় দেখিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন নিশান তৃষার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে মারধর ও গলাটিপে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের। নিহতের পরিবারের দাবি, এ সময় নিশান তৃষার গলার সোনার চেইন ও আংটি ছিনিয়ে নেয়।
পুরোনো শত্রুতার জের নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন জানান, গত বছরের ২ মে স্থানীয় জব্বারের মোড়ে নিশানসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি এফজেড মোটরসাইকেল (নম্বর ল-১৩-৬৯৭৭) ছিনিয়ে নেয়। ওই ঘটনায় আলমগীর হোসেন নিশানসহ আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আলমগীর হোসেনের দাবি, পূর্বের সেই চাঁদাবাজি, হামলা এবং মেয়ের হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী নিশানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশের বক্তব্য কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসোনা খাতুন জানান, স্কুলছাত্রী তৃষার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা (নম্বর-২৯/২৬, তারিখ-০১-০৭-২০২৬) রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে আদালতে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট দাখিল করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নিশান পলাতক থাকায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।






