অভয়নগরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোহেল (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৫৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। হঠাৎ করেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত সোহেল নওয়াপাড়া মডেল কলেজ এলাকার সৌদি প্রবাসী জুয়েলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন জ্বরে ভোগার পর ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব সোহেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ১২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মশকনিধন কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের শৈথিল্যের কারণে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। বিশেষ করে নওয়াপাড়া পৌর এলাকা, প্রেমবাগ, সিদ্ধিপাশা, শ্রীধরপুর, চলিশিয়া ও সুন্দলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। স্থানীয়রা নওয়াপাড়া পৌরসভার মশকনিধন কার্যক্রমকে ‘অকার্যকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা দ্রুত ফগিং কার্যক্রম জোরদার, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশা নিধনে নিয়মিত প্রচারণা চালানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সতর্ক রয়েছেন। ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, “জ্বর, তীব্র শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব।”
তিনি বাসা-বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে নিম্নআয়ের রোগীরা চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগেই মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।






