Uncategorized

কমছে মুরগি খামারের সংখ্যা, বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন অনেকেই

| October 24, 2023

পোলট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, হিট স্ট্রোকে মুরগির মৃত্যু ও আবহাওয়াসহ নানা কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন রংপুরের খামারিরা। এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ে কমেছে মুরগির খামার ও খামারির সংখ্যা। সেই সাথে করপোরেট কোম্পানি সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ঋণে জর্জরিত হয়ে খামারিরা তাদের খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। অনেকেই বিকল্প পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাবনাময় এই শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

এদিকে অনেক খামারিরা বলছেন, এসব খামার তৈরির কারণে অনেকের বেকারত্ব লাঘব হয়েছে। অনেকে কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এক সময় অনেক পরিবারের ভাগ্য বদলও হয়েছে। বর্তমানে পোলট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারাসহ নানা কারণে তারা লোকসানে পড়েছেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে রংপুর নগরী ও জেলার ক্ষুদ্র এসব খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা দরকার বলে তারা মনে করেন। এজন্য ব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ দেয়াসহ সরকারি উদ্যোগের দাবি তুলেছেন তারা। সেই সাথে মুরগি খামারিদের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রত্যক্ষ মনিটরিং করারও দাবি করেছেন এসব খামারিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৯০ দশকের শেষ দিকে রংপুর মহানগরী ও জেলার আট উপজেলায় ছোট ছোট আকারে মুরগি পালন শুরু হয়। এরপর ২০০৪-০৫ সালের দিকে ব্যাপক হারে খামারভিত্তিক মুরগি পালন শুরু হয়। সে সময় জেলায় লক্ষাধিক মুরগির খামার গড়ে ওঠে। কিন্তু ২০০৭ সালে মহামারি হিসেবে দেখা দেয় অ্যাভিয়াম ফ্লু। যার প্রভাব পড়ে পোলট্রি শিল্পে। এর ফলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে খামার। ২০১৯ সাল থেকে পোলট্রি খাদ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ শিল্পে নেমে আসে বিপর্যয়। সেই সাথে ডিম উৎপাদন এবং সরবরাহের সিংহভাগ করপোরেট কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সম্প্রতি সময়ে মুরগি খামার আরো কমতে থাকে। অনেকেই লোকসানে পড়েছেন। কেউ খামার বন্ধ করে বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। এতে করে এক সময়ের সম্ভাবনাময় এ শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্র জানায়, রংপুর মহানগরী ও জেলার আট উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মুরগির খামারের সংখ্যা ৬৫৩। বর্তমানে কতগুলো চালু রয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি।

রংপুর জেলা পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন সূত্র মতে, বর্তমানে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় ৫০টির অধিক মুরগির খামার চালু রয়েছে। নতুন করে আর কেউ খামার গড়ে তুলছেন না বলে তারা জানান।

রংপুর নগরীর বীরভদ্র এলাকার আফজাল হোসেন, নাজিরেরহাট এলাকার ফিরোজ হোসেন ও কাউনিয়া উপজেলার খানসামা মমিনগঞ্জ এলাকার কাজল মিয়াসহ কয়েকজন খামারি জানান, তারা দীর্ঘদিন লেয়ার মুরগির খামারের মাধ্যমে ডিম উৎপাদন করতেন। কিন্তু মুরগির খাবার ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে লোকসানের মুখে প্রায় এক বছর ধরে খামার বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

তাদের মতো মিঠাপুকুরের লতিবপুরের মজনু মন্ডলসহ অনেকেই খামার বন্ধ করে মুরগির অব্যবহৃত শেডে ভুট্টা, ধান ও লাকড়ির গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ বর্তমানে গ্যারেজও করেছেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে খাবার ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিরূপ আবহাওয়া। অধিকাংশ খামার সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় গত ৩ থেকে ৪ মাস আগে হিট স্ট্রোকে (প্রচন্ড গরম) রংপুর নগরীর বোতলা এলাকার খামারি বেলায়েত মাস্টারের আট হাজার মুরগির মধ্যে দেড় হাজার মুরগি মারা গেছে। এছাড়া পীরগাছা উপজেলার সাতদড়গাহ গ্রামের খামারি আবু হাশেমের ১২ হাজার মুরগির প্রায় দেড় হাজার, গঙ্গাচড়া উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকার খামারি আবু বক্করের ছয় হাজার মুরগির প্রায় ৭০০ মারা গেছে অতিরিক্ত গরমে।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরমানুর রহমান লিংকন জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সাল থেকে মুরগির ডিম উৎপাদন করছেন। বর্তমানে মুরগির খাবারের দাম প্রকার ভেদে শতকরা ৪৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছর আগে ৫০ কেজির খাবারের বস্তার দাম ছিলো দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। বর্তমানে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকা।

তিনি জানান, নানা অব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনাময় পোলট্রি খামার কমতে কমতে এখন রংপুরে ৫০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রান্তিক খামারিদের এখন একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ হচ্ছে ১০ দশমিক ২০ টাকা। তবে করপোরেট কোম্পানিগুলো একসঙ্গে অনেক ডিম উৎপাদন করায় তাদের খরচ তুলনামূলক কম হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে রংপুর জেলায় প্রতিদিন ডিমের চাহিদা হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ। এর মধ্যে মাত্র এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ পিস ডিম সরবরাহ করছে প্রান্তিক খামারিরা। বাকি ডিম সরবরাহ করছে করপোরেট কোম্পানিগুলো। তবে খামারিরা উৎপাদিত ডিমের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক জানিয়েছেন, রংপুর মহানগরী ও জেলার আট উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত লেয়ার মুরগির খামারের সংখ্যা হচ্ছে ৬৫৩টি। তালিকাভুক্ত হলেও খামারগুলো নিয়মিত চালু থাকে না বলে তিনি জানান।

স্বাআলো/এসএস

Shadhin Alo

Leave a Reply