আইন আদালত

যশোরে মাসুদ হত্যা মামলার আসামি আলামিন রিমান্ডে

| November 6, 2023

যশোরে কাঠ ব্যবসায়ী মাসুদ রানা হত্যা মামলার আসামি আলামিনকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৬ নভেম্বর) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহম্মেদ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামি আলামিন অভয়নগর উপজেলার বনগ্রাম কাটাখালের বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোর সদরের বসুন্দিয়ার কেফায়েতনগর গ্রামের মাসুদ রানা কাঠের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার পিতার জন্মস্থান অভয়নগরের বনগ্রামে। কিন্তু মাসুদের পিতা সোহরাব হোসেন বিশ্বাস কাঠের গুড়ির ব্যবসার সুবাদে বসুন্দিয়া মোড় কেফায়েতনগরে বসবাস করেন। পিতার মুত্যুর পরে মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে যেতেন মাসুদ। যাওয়া আসার মাঝে গাইদগাছি গ্রামের জামাই জুলফিকার আলীর সাথে মাসুদের পরিচয় এবং সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগে বনগ্রাম সুপারি বাগান জামে মসজিদের গ্রিল চুরি হয়েছে বলে আলোচনা শুরু হয়। আর ওই গ্রিল চুরিতে জুলফিকার আলীকেই সন্দেহ করে এলাকার কিছু লোকজন। তারই জের ধরে জুলফিকার আলীকে তার শ্বশুর বাড়িতে যেতে নিষেধ করে এলাকার পিন্টু, বাবু, মুরাদ, আলামিন, শিমুল, রাজু, শওকত আলী, মোশারফ হোসেন, জাকির, শরীফসহ কয়েকজনে।

কিন্তু বাড়িতে উঠতে পারছে না বলে গত ২৩ আগস্ট রাতে মাসুদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন জুলফিকার। এরপরে মাসুদ ও তার সাথে থাকা ইসরাফিল, সজিব, সুমন ও মইনকে সাথে নিয়ে জুলফিকারের শ্বশুর বাড়ি যান। এই সংবাদটি জানতে পেরে আসামিরা জুলফিকার আলীর শ্বশুর বাড়িতে হামলা করে। এসময় মাসুদসহ কয়েকজনকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এরপর আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তাদের হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে জুলফিকারের শ্বশুর বাড়ি থেকে ভ্যানে নিয়ে বনগ্রামের কাটাখাল মোড়ে নামিয়ে রাখে। সেখানে যাওয়ার পরে আসামিরা মাসুদকে আবারো মারপিট করে মৃত্যু ভেবে আসামিরা চলে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে মাসুদের পরিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মাসুদ রানা মারা গেছে বলে চিকিৎসক জানান। এ ঘটনায় নিহত মাসুদের মা খাদিজা পারভীন ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো অনেকের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার পরই আসামি শিমুলকে পুলিশ আটক করে। এরপরে দীর্ঘদিন পলাতক থেকে পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে আসামি বাবু, মুরাদ ও পিন্টু আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছিলেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর কয়েকদিন পরে আসামি রাজুও আদালতে আত্মসমর্পণ করে। তাকেও একদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

সব শেষে আসামি আলামিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার শুনানী শেষে তাকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

স্বাআলো/এসএ

Shadhin Alo

Leave a Reply