জাতীয়

একনেকের শেষ বৈঠক বৃহস্পতিবার, উঠছে যশোরের ২টিসহ ৪২ প্রকল্প

| November 8, 2023

বর্তমান সরকারের নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা হলে রুটিন কার্যক্রম ছাড়া কিছুই করতে পারবে না সরকার। এ অবস্থায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বসছে সরকারের এই মেয়াদে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) শেষ বৈঠক। আর এই এক বৈঠকেই অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে যশোরের দুইটিসহ ৪২টি প্রকল্প। যশোরের দুইটি প্রকল্প হলো, যশোর রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) নির্মাণ ও ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যে ৪২টি প্রকল্প শেষ একনেকে উপস্থাপন করা হবে এগুলোর জন্য খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নিয়মিত প্রকল্প আছে ৩৬টি, ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া শুধু মেয়াদ বাড়ানোর জন্য রয়েছে একটি প্রকল্প। আর বাকি পাঁচটি প্রকল্পর প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় এগুলো পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশনের একাধিক সূত্র বলছে, শতাধিক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অপেক্ষমাণ। এসব প্রকল্প নিয়ে গত সোমবার (৬ নভেম্বর) পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। মন্ত্রীর অফিসকক্ষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকারসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে শেষ পর্যন্ত ৪২টি প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

একনেকে উপস্থাপনের জন্য যেসব প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬টি ভৌত অবকাঠামো বিভাগের। শুধু মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করা প্রকল্পটিও ভৌত অবকাঠামো বিভাগের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯টি করে প্রকল্প রয়েছে আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের। এছাড়া শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রকল্প রয়েছে দুটি।

মন্ত্রণালয় ও কমিশনের একাধিক সূত্র বলছে, শেষ একনেকে অনুমোদনের তালিকায় বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছাড়াও সচিবদের ব্যাপক তদবির ছিলো। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসার কারণেই প্রকল্প অনুমোদনে প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন।

এ পরিস্থিতিতেই গত ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে অবগতিসহ রেকর্ড ৮২টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। ওই বৈঠকে অবশ্য সবগুলো প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। ৫২ হাজার কোটি টাকার ৩৭টি প্রকল্প ওই একনেকে অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাদ পড়া প্রকল্পগুলোসহ অন্য প্রকল্পগুলো শেষ একনেকে উত্থাপনের জন্য তালিকাভুক্ত করতে নানামুখী তদবির শুরু হয়েছিলো বলে জানায় পরিকল্পনা কমিশন সূত্র।

ঢাকায় নতুন পার্ক নির্মাণের প্রকল্প উঠছে একনেকে

একনেকে উঠতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় পার্ক নির্মাণ’। অনুমোদন পেলে ১০৩ কোটি টাকায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলা মাঠে নির্মাণ করা হবে পার্ক। গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকাবাসী নতুন একটি পার্ক পাবে। শিশুসহ সব বয়সী মানুষকে পার্কটি প্রকৃতির কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে। পাশাপাশি সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী ফাঁকা স্থানে লেক, সবুজ স্থান ও শিশুদের জন্য রাইড, বিশ্রামের জন্য বসার স্থানসহ পার্কটি নান্দনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, পার্ক নির্মাণ প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটির প্রস্তাব বেশ আগেই এসেছিল। এর মাঝে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কয়েকবার প্রাক-একনেক সভাও হয়েছে। সবশেষ সোমবারের পিইসি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি একনেকে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রকল্পটি অনুমোদনের কারণ জানিয়ে ড. এমদাদ বলেন, প্রকল্পের ব্যয় খুব বেশি নয়। এ ছাড়া জায়গাটি খোলা পড়ে আছে। সেখানে যেকোনো সময় অন্য স্থাপনা তৈরি হয়ে যেতে পারে। তার বদলে একটি পার্ক হলে রাজধানীবাসীর জন্য অনেক ভালো হবে। সেই চিন্তা থেকেই প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরো যেসব প্রকল্প উঠছে একনেকে

বৃহস্পতিবার একনেকে উঠতে যাওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকার শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প; তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১২৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ; চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক যথাযথমানে উন্নতীকরণ; ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্চারামপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ; রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়ক থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে আরো আছে, সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক ও কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীত করা; চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের (এন-১) দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশ চার বছরের জন্য পারফরম্যান্স-বেইজড অপারেশন ও দৃঢকরণ (প্রথম সংশোধিত); ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত); ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত); বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প; ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত); এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন রাস্তা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন।

একনেকে উঠতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে, বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম অধিকতর উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত); রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; মুগদা মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণ; সাপোর্টিং ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য মাদার অ্যান্ড চাইল্ড বেনিফিট প্রোগ্রাম; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, উন্নয়ন ও আনুষঙ্গিক কাজ বাস্তবায়ন; আইসিটি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে নেকটারের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম; উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা (তৃতীয় সংশোধিত)।

এছাড়া ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিস হেলথ প্রিভেনটিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট ৩); মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩-এর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ; সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা; সারাদেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্ব); প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত); আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত); বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার (প্রথম পর্যায়); মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন; কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় সক্ষমতা বাড়ানো; পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন; এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পগুলো উঠছে একনেকে। আর শুধু মেয়াদ বাড়ছে খুলনা মহানগর ও খুলনা জেলা পুলিশ লাইনস নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের।

একনেকে অবগতির জন্য ৫ প্রকল্প

৫০ কোটি টাকার নিচে ব্যয় হওয়ায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিজ এখতিয়ারে অনুমোদন দিয়েছেন পাঁচটি প্রকল্প। এগুলো হলো, স্মার্ট কৃষি কার্ড ও ডিজিটাল কৃষি (পাইলট) সংক্রান্ত প্রকল্প; তাঁতীদের জন্য চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন (প্রথম সংশোধিত); জামদানি ভিলেজ স্থাপন প্রকল্প; তাঁত বোর্ডের আওতায় ১৩টি বিভিন্ন ধরনের কেন্দ্র স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত); এবং রংপুরের পীরগঞ্জের গোপীনাথপুরে গোলেজা খাতুন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ও থেরাপি সেন্টার নির্মাণ।

স্বাআলো/এসএ

Shadhin Alo

Leave a Reply