সম্পাদকীয়: যশোরে প্রতিনিয়ত হত্যাজনিত কারণে লাশের মিছিল বাড়ছে। গত দুই মাসে জেলায় প্রায় এক ডজন হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এ জেলা যেনো মৃত্যু উপত্যাকায় পরিণত হতে যাচ্ছে। এ সব ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খণ্ড চিত্রমাত্র। প্রতিনিয়ত দুর্বৃত্তদের দাপটের সাথে ঘোরাঘুরি ও তাদের দুর্বিনীত আচরণে জনগণ দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। আতঙ্কে কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত। দুর্বৃত্তের হাতে যারা জীবন হারাচ্ছেন তারা হত্যা পরবর্তী কিছু জানতে পারছে না। কিন্তু তাদের স্বজনদের অবস্থাটা কি হয় তা অনুভুতিশীল সব মানুষই জানেন।
যশোরে হাসপাতালে ভর্তি বন্ধুদের দেখে ফেরার পথে চয়ন দাস নামে এক কিশোর খুন হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত চয়ন দাসের বাড়ি সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামে।
ওই দিন রাতে তাদের গ্রামের কিছু ছেলে ঝিকরগাছা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে নামযজ্ঞানুষ্ঠান দেখতে যায়। সেখানে ভোগের (খাবার) সময় শানতলার কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ হয়। এসময় স্বাধীন ও দীপ্তসহ কয়েকজনক মারপিট ও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চয়ন দাস এলাকার লোকজনের সঙ্গে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আহত বন্ধুদের দেখতে হাসপাতালে যায়। রাত ১টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে শানতলা এলাকায় পৌছালে ১৫ থেকে ২০ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা চয়নকে পিটিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজন হারানোর ব্যথা নিয়ে দীর্ঘ সময় তাদের কাটাতে হয়। অনেক সংসারে আয়ের লোকটি হারিয়ে যাওয়ায় তার রেখে যাওয়া পোষ্যরা অকুল সাগরে পড়ে।
মৃত্যু মাথায় নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা
এতে সমাজে অসহায় মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দারুণভাবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সব ঘটনার খবর প্রকাশিত হলেও আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের যেনো সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। পত্র-পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী দুর্বৃত্তরা অধরা থেকেই যাচ্ছে। অথচ কোনো একটা বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটে গেলেই পুলিশ আত্মপক্ষ সমর্থন করে নানা রকম বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে আর যাই হোক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।
নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা পুলিশের ওপর বর্তেছে। ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এ কথা কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন সবার কাম্য।
স্বাআলো/এসআর/এস
