রুহুল আমিন, যশোর: যশোরে ঈদ বাজারে খরা পড়েছে। আগামী ১৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের আর মাত্র পাঁচদিন বাকি আছে। কিন্তু ঈদ বাজার এখনো জমজমাট হয়ে উঠেনি।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবার ঈদের বাজারে খরা লেগেছে। স্বাভাবিক বেঁচাকেনার থেকে ঈদের সময়ে বেঁচাকেনা কম হচ্ছে। কোন কোন দিন বিসমিল্লাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
অনলাইন, স্থায়ী মেলা এগুলো ঈদ বাজারকে দিন দিন ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেক সময় অনলাইনে পণ্য ক্রয় করে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারপরও অনলাইন পণ্যের প্রচার-প্রচারণা বেশি থাকায় ক্রেতারা সেদিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানা গেলো
দেখা গেছে, যশোর শহরে বড়বাজার ও কালেক্টরেট মার্কেটগুলোতে সব শ্রেণির মানুষ পণ্য ক্রয় করে। ঈদ, পহেলা বৈশাখ এলে এসব মার্কেটে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সব সময় ক্রেতা গিজগিজ করে। এসব মার্কেট দেখলে বোঝা যায় ঈদ বা পহেলা বৈশাখ অতি নিকটে। এবার মার্কেটগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে না মাত্র পাঁচদিন পরে ঈদুল আযহা। পোশাক, জুতার দোকানগুলোতে এ চিত্র একটু বেশি ফুটে উঠেছে।
শহরের এইচএম আলী রোডের ব্যবসায়ী ফ্যাশান হাউজের মালিক ইয়াসিন হোসেন বলেন, ঈদের সময়ে নরমাল দিনের চেয়ে খারাপ বেঁচাকেনা হচ্ছে। কোন কোন দিন বিসমিল্লাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। মেলা, ফুটপথ ও অনলাইনের কারণে বেঁচাকেনা কমে গেছে। শহরে সারা বছর মেলা হয়। সাধারণ মানুষের সেদিকে একটু বেশি ঝোঁক থাকে। সবার ধারণা মেলাতে একটু বেশি ছাড় পাওয়া যায়। সেজন্য ক্রেতাদের মেলার মার্কেটে ঝোঁক বেশি। তার দোকানে হেজাব, থ্রি-পিছ, বোরকা রয়েছে। সাধারণত মেয়েদের সামগ্রী তিনি বিক্রি করেন। রোজার ঈদের পর থেকে তার বেঁচাকেনায় ভাটা পড়েছে।
স্মার্ট কালেকশনের মালিক হারুন অর রশিদ ও কুইন্স ফ্যাশানের মালিক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গত তিন মাস ধরে কোনো ব্যবসা হচ্ছে না। ব্যবসা ছেড়ে পালিয়ে যেতে মন চাচ্ছে। যেহেতু এ ব্যবসা শিখেছি তাই অন্য পেশায় যেতে পারছি না।
কোরবানির জন্য কেমন পশু কিনবেন?
আরাফাত ফ্যাশানের মালিক ফারুক হোসেন ও কাজিপাড়া ফ্যাশানের মালিক কামাল হোসেন বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের থেকে ফুটপথের ব্যবসা এখন বেশ ভালো। তাদের বেঁচাকেনাও ভালো হয়। আবার ঘর ভাড়া বাবদ কোনো খরচ নেই।
জুয়েল ফ্যাশানের মালিক মনিরুজ্জামান জীবন বলেন, তার দোকানে শাড়ি, গজ কাপড়, বাচ্চাদের আইটেম, মেয়েদের আইটেমসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য বিক্রি হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে স্বাভাবিকভাবে বেঁচাকেনা হচ্ছে। বাজারে লোক নেই। ঈদের আমেজ মানুষের মধ্যে নেই।
রুপসিঙ্গার ফ্যাশানের মালিক অনু বিশ্বাস, ময়ুরী ফ্যাশানের মালিক শাহ আলম বলেন, টুকটাক বেঁচাবিক্রি হচ্ছে। সেই রকম ব্যবসা নেই। মানুষ অথনৈতিকভাবে অশান্তির মধ্যে আছে।
সম্রাট সুর ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম ও প্রাইম সুর ম্যানেজার অনুপ কুমার দাস বলেন, জুতার ব্যবসা সব সময়ে বেশ ভালো থাকে। জুতা অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সবাইকে ক্রয় করতে হয়। প্রচণ্ডে গরমে মানুষ বের হতে পারছে না। সেই জন্য বর্তমানে ব্যবসা ভালো নেই।
আব্দুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, তার বাড়ি কাজীপাড়ায়। তিনি শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। ঈদের সময়ে মার্কেটে এসেছি কিন্তু ঈদ বাজার করার জন্য নয়। বাচ্চার একটি জুতা কিনতে এসেছি। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না তাই পরিবারের সবার জন্য মার্কেট করা সম্ভব হচ্ছে না।
সেলিনা খাতুন নামে এক নারী বলেন, স্বাভাবিক জিনিস ক্রয় করতে তিনি মার্কেটে এসেছেন। পরিবারের সদস্য পাঁচজন। তার পরিবারে স্বামী ছাড়া কেউ উপার্জনের আর কেউ নেই। তাই মন চাইলে সব সময় সবকিছু ক্রয় করা সম্ভব হয় না।
স্বাআলো/এস
