মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মঙ্গলবার ভোররাতে আরো ৩০ জন বাংলাভাষী নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করেছে। এই নিয়ে দুইদিনে একই সীমান্ত দিয়ে মোট ৪৯ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ।
মঙ্গলবার (২৭ মে) পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর সীমান্ত দিয়ে গোপনে ওই ৩০ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুজিবনগর থানা পুলিশ পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান জানতে পেরে উপজেলার কেদারগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে খবর পেয়ে মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তাদের হেফাজতে নেন।
আটককৃত ৩০ জন কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে তারা ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন। বিএসএফ তাদের আটক করে মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে দিয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। সাতক্ষীরার ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কুশখালী বিওপির একটি প্রতিনিধি দল ভারতীয় বিএসএফের কৈজী ও ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা রয়েছেন।
সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ২৩ জনকে পুশইন বিএসএফের
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃতরা কেদারগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার নাজমুল আহসান বলেন, বিএসএফ যে ব্যক্তিদের ঠেলে দিয়েছে, তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তাদের অধিকাংশই অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। বিএসএফ তাদের আটক করে মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সীমান্তে বিএসএফের এই ধারাবাহিক পুশইনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্বাআলো/এসুরী ক্যাম্পের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেছেন।
সীমান্তে ভারতের পুশইনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃতরা কেদারগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার নাজমুল আহসান বলেন, বিএসএফ যে ব্যক্তিদের ঠেলে দিয়েছে, তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তাদের অধিকাংশই অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। বিএসএফ তাদের আটক করে মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে পুশইন করেছে। আমরা তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পুশইন ইস্যুতে বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার (২৫ মে) ভোরে একই সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছিল বিএসএফ। দুইদিনের ব্যবধানে একই সীমান্তে বড় সংখ্যায় নাগরিকদের পুশইন করার ঘটনাটি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্বাআলো/এস
