চট্রগ্রাম বিভাগ

জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী | July 14, 2025

নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টিপাত এবং ফেনী মহুরী নদী থেকে আসা পানিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন ও শরৎকালীন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতে পানি জমে দেখা দিয়েছে গোড়া পচাসহ বিভিন্ন রোগবালাই। এই পরিস্থিতিতে প্রান্তিক চাষীরা বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং বাজারে আমন ধানের বীজের দাম বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট পাঁচ হাজার ১৯৯ হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে পানিতে আক্রান্ত অবস্থায় আছে। এরমধ্যে ৮৯১ হেক্টর আমনের বীজতলা, ২ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশের বীজতলা, ১ হাজার ২০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং ৫৭৫ হেক্টর শরৎকালীন সবজি নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।

গত ৭ জুলাই থেকে জেলায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং এরপর টানা ৪ দিনের বৃষ্টিতে জেলার ছয়টি উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়নে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে আউশের খেত ও আমন ধানের বীজতলা দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে, যা কৃষকদের জন্য বড় হুমকি।

সুবর্ণচরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, চারদিক পানির নিচে ডুবে থাকায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করার মতো উঁচু জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে উঁচু জায়গা আমনের বীজতলা করার জন্য ভাড়া নিচ্ছেন, কিন্তু পুঁজির অভাবে অনেক কৃষক নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রুত পানি না নামলে আউশ ও আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দেশের দুই জেলায় প্রবল বন্যার আশঙ্কা

কোম্পানীগঞ্জের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আকষ্মিক এমন দুর্যোগের মুখে পড়ে কৃষক দিশেহারা। ফলন্ত সবজির মাঠ পানিতে শেষ হয়ে যাওয়ায় দায়দেনা পরিশোধের চিন্তায় তারা উদ্বিগ্ন। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখনো জেলার ছয়টি উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়ন জলবদ্ধতার কবলে রয়েছে। প্রায় ২৪ হাজার ৯৫০টি পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় আছে এবং প্রায় ৯০ হাজার ৪০৩ জন মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন উপজেলায় ৫৮টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ২৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং ২৯টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মীরা রানী দাস বলেন, কবিরহাট, সুবর্ণচর ও সদর উপজেলায় বীজতলা ও সবজি আক্রান্তের হার অপেক্ষাকৃত বেশি। সেনবাগ এবং সুবর্ণচরের তুলনায় কবিরহাট উপজেলায় পানি ধীর গতিতে সরছে। পানি সরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

স্বাআলো/এস

Shadhin Alo