Uncategorized

আপেল চাষে ইমরুলের বাজিমাত

| May 11, 2024

প্রদীপ রায় জিতু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আপেল চাষে সফলতা পেয়েছেন বৃক্ষ গবেষক কৃষিবিদ ইমরুল আহসান। থোকায় থোকায় গাছে ঝুলছে ভিনদেশী আপেল। ভিনদেশী ফল হলেও খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হওয়ায় যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষের কাছে পরিচিত এবং প্রিয় একটি ফল আপেল। প্রতিদিন দর্শনার্থী ভীর জমাচ্ছেন তার এই আপেল বাগানে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ইমরুল আহসান দিনাজপুর হটিকালচার সেন্টারে সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার ব্যক্তিগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাসনিয়া এগ্রো রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টার। আপেল চাষে তার প্রতিষ্ঠান এই অঞ্চলের জন্য উপযোগী তিনটি জাত উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে সামার রাম্বু, হরিমন ৯৯, আন্না, কাশমেরি এই জাতগুলোতে ব্যাপকভাবে ফলন হয়েছে।

২০২১ সালের জুন মাসে আপেলের চারা গুলো রোপণ করেন, তার মধ্যে রয়েছে সামার রাম্বু, হরিমন ৯৯, আন্না, কাশমেরি। এই জাতগুলোতে ব্যাপকভাবে ফলন হয়েছে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স আনুমানিক তিন বছর। গত বছরে দুইটি গাছে ৫০টির মতো ফল আসে কিন্তু এ বছর ইমরুল আহসানের বাগানে ২৫টি গাছের মধ্যে ১০টি গাছে আনুমানিক এক হাজার ৫০০ এর অধিক ফল ধরেছে এবং প্রতিটি গাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুটের মতো।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অনুকূল আবহাওয়ায় আপেল চাষের জন্য তিনটি জাত বেশ কিছু হরমোনাল ট্রিটমেন্ট লাগে যেটা অনেকেই জানেন না, যার কারনে প্রচুর ফুল আসে কিন্তু ফল ধরেনা তাই আপেল ফল টিকানোর জন্য প্লান মাফিক সঠিক পুষ্টি উপাদান ও বেশ কিছু হরমোনাল ট্রিটমেন্ট লাগে যার সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে পারলে এই অঞ্চলে আপেল উৎপাদন সম্ভব। প্রতিদিন অনেক মানুষ তার বাগানে ভীড় করেন, অনেকে আবার তার কাছ থেকে পরামর্শও নিতে আসছেন।

বিদেশী এই ফল দেশের মাটিতে তার সফলতা দেখে বেশ আশ্চর্য স্থানীয়সহ দর্শনার্থীরা।

আপেল বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী সাদেকুল ইসলাম জানান, আপেল আমাদের দেশে চাষ করা সম্ভব তা আমার আগে জানা ছিলো না, তাই স্বপরিবারে স্বচক্ষে দেখতে আসলাম সত্যিই আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। আমিও তার কাছে কয়েকটি জাতের আপেল চারা ক্রয় করে তার পরামর্শ নিয়ে আপেল চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া সামার রাম্বু, হরিমন ৯৯, আন্না, কাশমেরি আপেলের জন্য খুবই উপযোগী। অবশ্য যেকোনো ধরনের মাটিতে সঠিক যতœ ও বেশ কিছু হরমোনাল ট্রিটমেন্ট দিয়ে নতুন চার জাতের আপেল চাষ করলে ফলন ভালো হবে। তাই যাঁদের জমি আছে, তাঁদের পাশাপাশি বেকার যুবকেরাও সামার রাম্বু, হরিমন ৯৯, আন্না, কাশমেরি আপেল আবাদ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

স্বাআলো/এস

Debu Mallick