জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: আসন্ন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে পশুর হাট। হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়। কোরবানির পশুর দামও ভালো বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। পশু কিনতে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্য চলছে দর কষাকষি। চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারী পশুহাট, ডুগডুগি পশুহাট, মুন্সিগঞ্জ পশুহাট এবং আলমডাঙ্গা পশুহাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সোমবার ডুগডুগি পশুহাটে গরু বিক্রি করতে আসা জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন গরু ও ছাগলের দাম তুলনামূলক বেশি।
মঙ্গলবার (১১ জুন) হাটে তিনটি গরু এনেছিলাম বিক্রির জন্য। পাঁচ হাজার টাকা করে লাভে দুইটি গরু বিক্রি করেছি। আরেকটা গরুর আশানুরূপ দাম না হওয়ায় বিক্রি করিনি। আগামী হাটে বিক্রি করবো।
মৃগমারী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী হাবেল উদ্দীন বলেন, অন্য দিনের তুলনায় আজকের হাটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপারীরা এসেছেন। এ কারণে গরুর দামও বেশি। আজকে হাটে পাঁচটা গরু এনেছিলাম। সবগুলো গরু বিক্রি হয়ে গেছে। লাভও বেশি হয়েছে। গরুর দাম এরকম থাকলে গরু পালনকারীরা লাভবান হবেন।হাটে পশু কিনতে আসা মাজেদুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রতিবছর খামার থেকে গরু কিনে থাকি। খামার থেকে গরু কিনলে সুবিধা রয়েছে। ঈদ পর্যন্ত গরু খামারে রাখা যায়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা পোয়াতে হয় না। তবে এ বছর গরুর দামটা একটু বেশি।
হাটে গরু কিনতে আসা নাসির উদ্দিন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, কোরবানি করার জন্য মাঝারি গরু খুঁজছি। এ বছর গরু প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাম বেশি মনে হচ্ছে। যেহেতু কোরবানি করতে হবে তাই বেশি দাম দিয়েই গরু কিনতে হচ্ছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ হাজার ৯১৭ টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় দুই হাজার ৬৭৬ টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় তিন হাজার ৫৯৯ টি, দামুড়হুদা উপজেলায় এক হাজার ৯২৮ টি এবং জীবননগর উপজেলায় দুই হাজার ৭১৪ টি। এসব খামারে কোরবানি উপলক্ষে দুই লাখ ১১ হাজার ৮৭৯ টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৫৪ হাজার ৮৯১ টি, মহিষ ১৬০ টি, ছাগল এক লাখ ৫২ হাজার ৮৯৬ টি, ভেড়া তিন হাজার ৯২৫ টি এবং অন্যান্য ৭টি।
এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৬ টি। সে হিসাবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৫৩ হাজার ২৩টি কোরবানিযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এসব পশু ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জীবননগর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের খামারি আবুল কালাম বলেন, চার বছর আগে খামার গড়েছিলাম। খামারে মোট ২০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি গরুর দাম বর্তমান বাজারমূল্য থাকে তাহলে খামারিরা লাভবান হবেন।
একই উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের খামারি রহিম শেখ বলেন, পাঁচ বছর আগে শখের বশে একটি খামার তৈরি করি। আমার খামারে বর্তমানে ১০ টি গরু রয়েছে। যার মধ্যে তিনটি গরু বিক্রি করেছি। বাকি গরু ঈদের মধ্য বিক্রির আশা করছি। যদি এমন দাম থাকে তাহলে লাভবান হতে পারবো।
জীবননগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খামারি আবুল বাশার বলেন, আমার খামারে ৪০ টি কোরবানি উপযুক্ত গরু ছিল। ৩৫ টি গরু এরই মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এখনো আমার খামারে ১০টি গরু আছে। এই গরুগুলো আরো সাইজে বড়। বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত বলতে পারছি না লাভ হবে, না লোকসান হবে।
তিনি আরো বলেন, খাবারের দাম গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি। এলাকায় বিক্রি উপযুক্ত কোরবানির গরু গত বছরের তুলনায় কম। বেচাকেনা গত বছরের তুলনায় কম।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলায় এবার কোরবানির জন্য ৫৪ হাজার ৯৭৯ টি গরু ও মহিষ মোজাতাজা করা হয়েছে। এছাড়া এবারে এক লাখ ৫৬ হাজার ৮২১ টি ছাগল ও ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। খামারগুলোতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদনে খামারিদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন পশুহাট ও খামারগুলোতে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। খামারিদের পালনকরা পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাহিদা পূরণ করবে। খামারিরা এবার কোরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান জানান, পশুহাটগুলোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। জাল নোট ঠেকানোর জন্য পুলিশের নজরধারী রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাপারীদের পশু আনা-নেয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশের বাড়তি নজরধারী রয়েছে।
স্বাআলো/এস/বি
