জনস্বার্থে সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেও একশ্রেণির অসাধু ও অসচেতন জেলে তা উপেক্ষা করে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব জেলেরা মাছ ধরতে বিষের মতো ক্ষতিকর পন্থা অবলম্বন করছে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১২ জুন) দুপুরে সুন্দরবনের একটি খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের সময় ড্রোন ব্যবহার করে তাদের শনাক্ত করে বন বিভাগ।
পরে বনরক্ষীরা নৌকা, জাল ও বিষ দিয়ে ধরা মাছ জব্দ করতে সক্ষম হলেও বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা পালিয়ে গেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঝাপসী এলাকার বয়ারসিংগার শিসা খালে বুধবার দুপুরে স্মার্ট পেট্রোলিং টিম ড্রোন ব্যবহার করে টহল দিচ্ছিল। ড্রোন ক্যামেরায় দেখা যায়, ওই খালে একটি নৌকায় কিছু লোকজন মাছ শিকার করছে। এটি দেখে দ্রুত স্মার্ট পেট্রোলিংয়ের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বনরক্ষীদের কাছাকাছি আসতে দেখে নৌকায় থাকা জেলেরা দ্রুত নৌকা ও জাল ফেলে বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে দুটি মাছ ধরার নৌকা, নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে বিষের বোতল, বিষ দিয়ে ধরা মাছ এবং বেশ কিছু জাল জব্দ করে।
বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম জানান, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সকল প্রকার পাস-পারমিট বন্ধ করে মাছ শিকারে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে কোনো অপরাধী যাতে বনে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে সুন্দরবনে স্মার্ট পেট্রোলিং টিমসহ বনরক্ষীরা বিভিন্ন নদী ও খালে ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। বুধবার ঝাপসী এলাকার বয়ার সিংগার খালে টহলের সময় ড্রোন দেখে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে ২টি মাছ ধরা নৌকা, বিষের বোতল, বিষ দিয়ে ধরা মাছ এবং বেশ কিছু জাল রয়েছে।
ডিএফও রেজাউল করিম বলেন, সুন্দরবনে ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্বাআলো/এস
