খুলনা বিভাগ

যশোরে ঘরছাড়া গৃহবধু প্রিয়া ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

| August 3, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে মারধর করে ঘরছাড়া করেছেন সদর উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের আল-আমিন।

বিয়ের ১১ মাসের মাথায় স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন একই এলাকার শারমিন ইসলাম প্রিয়া।

এঘটনায় প্রিয়ার বাবা কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যৌতুক হিসেবে ঢাকায় আল-আমিনকে ফ্লাট কিনে না দিলে প্রিয়াকে ঘরে নিবেন না আল-আমিন। যৌতুক আদায়ে আল আমিনের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তার মামা বিল্লাল ও নানা আবুল কালাম।

বিল্লাল পুলিশ সদস্য হওয়ায় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন প্রিয়াকে। এমনকি হয়রানিও করছেন বলে অভিযোগ করছেন প্রিয়া।

কোতোয়ালী থানায় দেয়া অভিযোগে প্রিয়ার বাবা রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ১১ মাস আগে প্রিয়ার সাথে আল-আমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সংসারের যাবতীয় মালামাল ও আল-আমিনকে চেইন, আংটিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দেয়া হয়। বিয়ের কয়েকদিন যেতে না যেতেই আল-আমিন যৌতুকের জন্য চাপ দেয় আল-আমিন। এক পর্যায় নগদ টাকা অন্যথায় ঢাকায় একটি ফ্লাট বাড়ি কিনে দেয়ার জন্য বলে। প্রিয়া দিতে না পারায় তাকে মারধর করতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে যেভাবে হোক টাকা আনতে হবে অন্যথায় সংসার না করার হুমকিও দেয়। এর মধ্যে প্রিয়া জানতে পারে আল-আমিনের সাথে অন্য এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। যা হাতেনাতে ধরা খায় আল-আমিন।

জানাজানি হলে প্রিয়া এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলেও আরো ভয়ানক হয়ে উঠে আল-আমিন। এক পর্যায় গত ২৮ জুলাই প্রিয়াকে মারধর করে আল-আমিন। এসময় তার সাথে যোগ হয় বিল্লাল ও আবুল কালাম। শেষে প্রিয়াকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রিয়ার বাবা আল-আমিন ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে। গত ২ অক্টোবর আল-আমিন প্রিয়ার পরিবারকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। প্রিয়ার বাবা রবিউল ও মামা শফিকুর আল আমিনদের বাড়িতে কথা বলতে যান। এসময় তাদেরকে প্রথমে অপমান করে। এরপর মারধর করে জখম করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একই সাথে টাকা কিংবা ফ্লাট না কিনে দিলে সংসার করবেনা বলে জানিয়ে দেন আল-আমিন। বাধ্য হয়ে রবিউল কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রিয়ার দাবি, যৌতুক দাবি ও পরকীয়ার কারণেই তার সংসার আজ শেষের পথে। আল-আমিন এক ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছেন অন্যদিকে তার মামা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সদস্য বিল্লাল পুলিশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করছেন। মিথ্যা মামলাসহ নানা ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছেন। এমতাবস্তায় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে আল-আমিন ও বিল্লালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার এসআই কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

স্বাআলো/এস

Debu Mallick