যশোরের কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় তিন বছরের শিশু খাদিজা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সামিয়া খাতুন এবং তার সৎ বাবা শহিদুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত শিশু খাদিজা মা সামিয়ার সাথে সৎ বাবা শহিদুল ইসলামের সংসারে থাকতো।
এ ঘটনায় শিশু খাদিজার বাবা মণিরামপুর উপজেলার মাছনা গ্রামের হেলাল হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে হেলাল ও সামিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য কলহের জেরে পরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর সামিয়া শহিদুল ইসলামকে বিয়ে করে এবং শিশু খাদিজাকে নিয়ে নতুন সংসার শুরু করেন। গত ১৫ মে রাতে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হঠাৎ খাদিজা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারা যায়। রাত ১২টার দিকে শিশুটির খালা ফোনে পিতা হেলালকে মৃত্যুর খবর জানান।
যশোরে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা সাঈদ আটক
খাদিজার বাবা হেলাল হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য তিনি তার প্রাক্তন স্ত্রী সামিয়া খাতুন ও তার বর্তমান স্বামী শহিদুল ইসলামকে দায়ী করেন।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, ১৬ মে সকালে শিশুটির বাবা হেলাল হোসেন থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ তার বাবা হেলাল হোসেনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির মা সামিয়া এবং সৎ বাবা শহিদুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের আদালতে চালান দেয়া হবে।
এই ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাআলো/এস
