ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের পরিচালিত ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ করার দাবি, উভয় উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন তেহরানে অবস্থিত সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আব্বাস আসলানি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই পর্যবেক্ষণ জানান।
আব্বাস আসলানি বলেন, ইসরায়েলের হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কিছুটা ক্ষতি সাধিত হলেও ইরান আগেই কৌশলগতভাবে ইউরেনিয়াম ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সুরক্ষিত স্থানে স্থানান্তর করতে পেরেছিল। ফলে ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল অগ্রগতি আটকাতে পারেনি।
ইসরায়েলি হামলায় ইরানে প্রাণ গেছে ৬০৬ জনের
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং, সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রমে ইরান ইসরায়েলে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, যা ইরানের সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ন থাকার প্রমাণ দেয়।
যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইরানের অবস্থান নিয়েও কথা বলেন গবেষক আসলানি।
তিনি জানান, ইরান যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন হলেও মনে হচ্ছে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
তবে ইরান এখনই যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে আব্বাস আসলানি ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে, যা ইরানের আস্থাহীনতার মূল কারণ।
স্বাআলো/এস
