জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: জেলার কালীগঞ্জে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ২৬৪ বস্তা চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৫ জুন) এই চাল বিক্রি করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারের একটি দোকানে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের দুইদিন আগে কালীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে ২৬৪ বস্তা ভিজিএফের চাল নিয়ে যাওয়া হয় মহেশপুরের খালিশপুরে। প্রতিটি বস্তা খাদ্য অধিদ্যফতরের স্টিকারযুক্ত। একটি গাড়ির চালকের কাছে তিনটি বিলি আদেশ (ডিও) পাওয়া যায়।
তাতে দেখা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার ৪নং নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্কর, ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল হিজড়া ও ৮নং মালিয়াট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান খানের নামে গত ১২ জুন চালগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মেয়াদ ছিলো ৩০ জুন পর্যন্ত। এরমধ্যে চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্করের জন্য ২.৫ মেট্রিক টন, চেয়ারম্যান নজরুল হিজড়ার জন্য তিন মেট্রিক টন ও আজিজুর রহমান খানের জন্য দুই মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়া এ চাল দরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষ বরাদ্দের অংশ। ঈদের আগে যে চালগুলো গরীব মানুষদের দেয়া হয়। আর এই চালগুলো ঈদের আগে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিলো।
এক গাড়ির চালক বলেন, কালীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে চাল নিয়ে মহেশপুর উপজেলায় খালিশপুর বাজারের দীপু দাদার দোকানে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার গাড়িটাই শেষ। এর আগে তিন গাড়ি গিয়েছে। মোট চার গাড়ি চাল বেরিয়েছে। প্রতি গাড়িতে ৬৬ বস্তা চাল।
শুক্রবার (২১ জুন) ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল হিজড়া বলেন, ফোনে আমি কিছুই বলবো না। আপনি সরাসরি ইউনিয়নে আসলে সব বলবো।
কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহদী হাসান শিহাব বলেন, গত ১৫ জুন সরকারি বরাদ্দের চাল গুদাম থেকে দেয়া হয়েছে। ডিও লেটার দেখালে আমরা চাল প্রদান করি। এখন এই চাল কে কোথায় বিক্রি করেছে সেটা আমি জানি না।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাআলো/এস
