কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চক দৌলতপুর এলাকায় চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর, তার বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা জব্বার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক দৌলতপুর এলাকার সাদমান আলীর ছেলে ব্যবসায়ী সানজিদের কাছে একই এলাকার আকবর আলীর ছেলে জব্বার ও তার লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। জব্বার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে চকদৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে জব্বার ও তার লোকজন সানজিদের গতিরোধ করে আবারও চাঁদা দাবি করে। সানজিদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।
মারধরের কিছুক্ষণ পর জব্বার ও তার লোকজন সানজিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা নগদ টাকা, গহনা ও মূল্যবান সম্পদ লুট করে এবং বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে সানজিদের প্রায় ৪২ লাখ টাকা মূল্যের একটি এক্স নোহা মাইক্রোবাস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া সানজিদ ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার/চাচাতো ভাইয়ের তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আগুন নেভাতে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সানজিদ জানান, তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা জব্বার তাকে ‘আওয়ামী লীগ ট্যাগ’ দিয়ে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জব্বার তাকে মারধরসহ নানা হুমকি দিত। শুক্রবার রাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তার মোড়ে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জব্বার তাকে মারধর করে। তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও চাচাতো ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেলগুলো ভাঙচুর করা হয়। এ অবস্থায় তারা আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে গেলে জব্বার ও তার লোকজন বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এমন ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেওয়াসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলেই রয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহলরত রয়েছেন।
স্বাআলো/এস
