কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। এতে হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও মানুষ কলাগাছের ভেলা তৈরি করে চলাচল করছেন, আবার কোথাও শিশুদের ও জিনিসপত্র নিয়ে ককশিটের উপর করে পার হচ্ছেন।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। এই অতিবৃষ্টির কারণে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
দেখা গেছে, কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, রাজারবাগান, গদাইবিল, মাঠপাড়া, পার-মাছখোলা এবং পুরাতন সাতক্ষীরার মতো নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।
বদ্দিপুর কলোনির গৃহবধূ শাহানারা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে এমন পরিস্থিতি হচ্ছে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। এবার রান্না ঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল নষ্ট হয়ে গেছে। পোকামাকড়ের উপদ্রবে রাতে ঘুমাতে পারছেন না। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে।
দেশের দুই জেলায় প্রবল বন্যার আশঙ্কা
শহরের কুখরালি এলাকার ইকরামুল হাসান অভিযোগ করেন, প্রভাবশালীরা বিলের মুখ বন্ধ করে মাছের ঘের করায় শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিমি বলেন, পানির কারণে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে সমস্যা হচ্ছে। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় এখন পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, বছরের পর বছর ধরে সাতক্ষীরার মানুষ একই দুর্ভোগে ভুগছে। পৌর মেয়র ও কাউন্সিলররা শুধু নির্বাচনের সময় আসেন। এখন অজুহাত দিচ্ছেন যে সরকার পতনের পর ঠিকাদার পালিয়েছে, তাই কাজ হয়নি।
তিনি বলেন, নেটপাটা সরানো, স্লুইস গেট সচল রাখা, প্রকৃত গভীরতা অনুযায়ী খাল খনন ও বাঁধ সংস্কার ছাড়া এই দুর্ভোগের সমাধান সম্ভব নয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ কিলোমিটার খাল ও সেচনালা সংস্কার করা হয়েছে। তিনি জানান, স্লুইস গেট খুলে দেয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি ফেলার ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জলাবদ্ধতার চাপে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরাবাসী এখন একটি টেকসই ড্রেনেজ পরিকল্পনা এবং তার দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছে।
স্বাআলো/এস
