অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক (৮৬) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুমের মেয়ে শুচিতা শরমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বেলা আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হক দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলা ভাষার প্রসার ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে।
তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’ উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে তার ২০টির বেশি মৌলিক বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করা এই গুণী অধ্যাপকের স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তার দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন, যাকে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।






