তারিখ লোড হচ্ছে...
স্বাধীন আলো

সত্যের পথে, মানুষের পাশে

Tuesday, 14 July 2026
জাতীয়

অনলাইন জুয়ার জালে পাচার হাজার কোটি টাকা

Debu Mallick  |  30 June 2026

বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের (বাজি) প্রবণতা। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর আনুমানিক ১ হাজার ৬০০ কোটি থেকে ২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’।

১৫৯ বছরের পুরোনো আইনের বিদায়: নতুন এই আইনটির মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করা হয়েছে। ডিজিটাল যুগের বাস্তবতা বিবেচনা করে নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

জুয়া ও অর্থপাচারের ভয়াবহতা: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় এজেন্টরা বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে রাশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সাইপ্রাসের মতো দেশের জুয়া প্ল্যাটফর্মে তা পাচার করছে।

আইনে শাস্তির বিধান: নতুন আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:

  • অনলাইন বেটিং বা বাজিতে অংশ নিলে: সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
  • জুয়া প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ পরিচালনা করলে: সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
  • ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের: সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা।
  • সাধারণ জুয়ার ক্ষেত্রে: সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

এছাড়া জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারকারী এবং অর্থ সংগ্রহকারী এজেন্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধী শনাক্ত করতে সরকার ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

সংসদে বিতর্ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য: আইনের একটি ধারা নিয়ে সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। বিশেষ করে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া পুলিশকে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বা সার্ভারে প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনলাইন জুয়া এখন সম্পূর্ণ সাইবারভিত্তিক অপরাধ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা ডিজিটাল আলামত মুছে ফেলতে পারে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত: সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইনটি সময়োপযোগী। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি এবং সিআইডির সাইবার ইউনিটের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন। ভিপিএন ও ডার্ক ওয়েবের মতো প্রযুক্তি মোকাবিলায় আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেছেন।

নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল

স্বাধীন আলো.com

আপনার এলাকার খবর জানান আপনি নিজেই!

যোগ দিন আমাদের "নাগরিক সাংবাদিকতা" গ্রুপে। আপনার চারপাশের সমস্যা, সম্ভাবনা বা জনদুর্ভোগের ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। আমরা হব আপনার কণ্ঠস্বর।

📧 info@shadhinalo.com🟢 WhatsApp: 01783057931
খবর পাঠান (হোয়াটসঅ্যাপ)