এমপির ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় নিজের মেয়ের নাম

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান বাচ্চু-এর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান মঞ্জুরির তালিকায় তার মেয়ের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, অনুদানের প্রাথমিক তালিকা তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তৈরি করে জমা দিয়েছেন। তালিকাটি তিনি নিজে দেখার সুযোগ পাননি।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে গত ১৮ জুন ইস্যু করা একটি চিঠির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমানের অনুকূলে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এই অর্থ সংসদ সদস্যের সুপারিশ করা ব্যক্তিদের অনুকূলে ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। তালিকা অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের জন্য ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলার তালিকায় হবোখালী ইউনিয়নের ৯ জন এবং আউড়িয়া ইউনিয়নের একজনের নাম রয়েছে।
তালিকার প্রথম দিকে হবোখালী গ্রামের ফাইজা (পিতা মো. বাচ্চু) এবং অষ্টম নম্বরে ফাইজা (পিতা মো. আতাউর)-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। উভয়ের নামের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর মেয়ের নামও ফাইজা বলে জানা গেছে।
‘তালিকা আমি দেখিনি’: এমপি
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, একজন সংসদ সদস্য জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পেয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, “শপথ নেওয়ার পর চলতি অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী নড়াইল-২ আসনের জন্য আমি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছি। তবে এই অর্থ ছাড়ের জন্য সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা জমা দিতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এলাকায় ব্যস্ত থাকার সময় পিএস ফোন দিয়ে জানায়, ওই দিনই নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বলেছি, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দিতে।”
এমপি বলেন, “সে (পিএস) জানিয়েছে, অফিস থেকে বলা হয়েছে আপাতত কিছু পরিচিত নাম দিয়ে টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পরে প্রকৃত তালিকা সংরক্ষণ করে বিতরণ করা যাবে।”
আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, “পিএসের কাছে থাকা স্বাক্ষর করা প্যাডে তালিকাটি জমা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় কারা রয়েছে, তা আমি দেখার সুযোগ পাইনি। এমনকি ওই টাকা এখনো আমি হাতে পাইনি।”
সংসদ সদস্য বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন লেখা হচ্ছে। টাকা হাতে পাওয়ার পর এবং অর্থবছর শেষ হলে অন্যান্য অনুদানের মতো এই টাকার প্রকৃত তালিকাও জনগণ জানতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী পাঁচ বছরে ছুঁয়ে দেখব না।”
আতাউর রহমান বাচ্চু জানান, শনিবারের মধ্যে একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদানের অর্থ বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ গোফরানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।






