কেঁপে উঠল বিশ্বের একাংশ, লাখো মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বের তিনটি দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলা, এশিয়ার জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় বুধবার এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭.৫। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পেতে সময় লাগবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৬.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে জাপানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলেও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব ভূমিকম্পের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। পৃথিবীর আলাদা আলাদা টেকটোনিক প্লেট ও ফল্ট লাইনে জমে থাকা চাপের কারণে এসব ভূমিকম্প ঘটে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অঞ্চলের ভূমিকম্প সাধারণত হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের অন্য অঞ্চলের ভূমিকম্পের কারণ হয় না। তবে একই সময়ে একাধিক বড় ভূমিকম্প ঘটলে তা মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করে।
ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।






