কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা

আগামী পাঁচ বছরে দেশে ও বিদেশে মোট ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০৩১ সালের সংস্কার ও উন্নয়নবিষয়ক পাঁচ বছর মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের ঋণের চাপ মোকাবিলা করেও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের লক্ষ্য, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করা।
দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
কোনো প্রকল্পে ধীরগতি বা অনিয়ম দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সেমিনারে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।
তবে তারা বলেন, লক্ষ্য অর্জনে শুধু পরিকল্পনা নয়, এর কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের যুগোপযোগী কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।






