ক্রিসেন্ট জুট মিল লিজে যাচ্ছে, ৩৬ মাস ভাড়া না দেওয়ার শর্ত

খুলনার ঐতিহ্যবাহী ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজে যাচ্ছে মাহাবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে। তবে লিজ চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে প্রথম ৩৬ মাস কোনো ভাড়া প্রদান না করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টের মধ্যেই মিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় পাট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) এবং মাহাবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও হস্তান্তরের পরবর্তী তিন বছর (৩৬ মাস) পর্যন্ত বিজেএমসিকে কোনো ভাড়া দিতে হবে না বলে শর্তে উল্লেখ রয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে লিজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ১৮ কোটি টাকা জামানত হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।
এর আগে উৎপাদন বন্ধ থাকা মিলটির পুরনো যন্ত্রপাতি ও লোহার সামগ্রী ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি বিজেএমসি ব্যাংকঋণ পরিশোধ করে এবং মিলের বিপরীতে সুদ বাবদ ৩২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা মওকুফের প্রস্তাবও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
২০২০ সালের ১ জুলাই উৎপাদন বন্ধের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই পাটকল। পুনরায় চালুর দাবি ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত এটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লিজ চুক্তির সময় বিজেএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন শিকদার এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, মিলটি পুনরায় উৎপাদনে গেলে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।






