তারিখ লোড হচ্ছে...
স্বাধীন আলো

সত্যের পথে, মানুষের পাশে

Tuesday, 14 July 2026
বিশেষ প্রতিবেদন

খুলনায় অস্ত্রবাজি, টার্গেট কিলিংয়ে জনমনে আতঙ্ক

Debu Mallick  |  06 July 2026

খুলনা জেলা ও মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত এক মাসে প্রকাশ্য দিবালোকে টার্গেট কিলিং, গুলি বর্ষণ, নৃশংস ট্রিপল মার্ডার এবং সুন্দরবনে বনদস্যুদের ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার মতো ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। গত পাঁচ দিনে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনা এবং দিঘলিয়ায় ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, খুলনা জেলা ও মহানগরী এলাকায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ১৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ জুন সোনাডাঙ্গায় একই পরিবারের বৃদ্ধা নানি ও দুই নাতিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা পুরো খুলনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৯ জুন গল্লামারী এবং ২ জুলাই লবণচরা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুই তরুণকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনাকীর্ণ এলাকায় অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া। গত ৪ জুলাই রূপসা নতুন বাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় ‘ইতি’ নামের এক স্কুলছাত্রী গুলিবিদ্ধ হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রূপসা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে গুলি চলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক পালিয়ে যায়। আমরা এখন দোকানে বসতেও ভয় পাচ্ছি।’

এর একদিন পরই দিঘলিয়ার গাজীরহাটের মোল্লারডাঙ্গা এলাকায় সমির নামে এক ভ্যানচালককে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের ধারণা, ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মহানগরীর পাশাপাশি খুলনা জেলার কয়রা, দাকোপ ও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যুদের তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২৫ জুন সুন্দরবনের গহিনে কোস্টগার্ডের সাথে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র রাতভর গোলাগুলির ঘটনায় এক দস্যু নিহত হয়। ৪ জুলাই কয়রা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ আরও এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), জেলা পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। জুন মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে অস্ত্র, মাদক ও মামলার পরোয়ানায় প্রায় তিন শতাধিক সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগার লবী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “মাদক ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না। সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে।”

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, রূপসায় স্কুলছাত্রী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই কথা জানিয়েছেন দিঘলিয়া থানার ওসি শাহ আলম। তিনি জানান, ভ্যানচালক সমিরের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পরও অপরাধের গ্রাফ নিচে না নামায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনার জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, “কেবল সাময়িক অভিযান চালিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কিশোর গ্যাং কালচার, মাদক সিন্ডিকেট এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল

স্বাধীন আলো.com

আপনার এলাকার খবর জানান আপনি নিজেই!

যোগ দিন আমাদের "নাগরিক সাংবাদিকতা" গ্রুপে। আপনার চারপাশের সমস্যা, সম্ভাবনা বা জনদুর্ভোগের ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। আমরা হব আপনার কণ্ঠস্বর।

📧 info@shadhinalo.com🟢 WhatsApp: 01783057931
খবর পাঠান (হোয়াটসঅ্যাপ)