গোপালগঞ্জে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার আলোচিত মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা যারা
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত: জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ।
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত: মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
রায় ঘোষণাকালে বিচারক বলেন, “এটি শুধু একটি হত্যা মামলা নয়, বরং মানুষের রূপধারী কিছু অপরাধীর হিংস্রতার শিকার এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির দলিল।” আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, শবে বরাতের রাতে নামাজ পড়তে বের হওয়া শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে মুক্তিপণের আশায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ মেহগনি বাগানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ধরনের পাশবিক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে অপহৃত হয় আট বছরের মাহফুজ। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পাওয়ায় প্রায় দেড় মাস পর ২০ আগস্ট রাতে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। নিহত শিশুর বাবা ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে পরিবারের পূর্বশত্রুতা ছিল।
মামলার দীর্ঘ পথচলা
ঘটনার পর ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিচার শুরু হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এর আগে, একই মামলার অপর দুই নাবালক আসামি মেহেদী ও সাদ্দামকে গত বছরের (২০২৫) ৯ নভেম্বর ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
