চীন সফররত প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু কূটনীতি

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে চীন সফরের প্রথম দিন কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দালিয়ানে পৌঁছানোর পর থেকেই দিনজুড়ে ব্যস্ত কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সফরের প্রথম দিনেই তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে জলবায়ু সংকট, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা এবং দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কর্মসূচির কথা জানান।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ জলবায়ু অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন—
প্রথমত, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নের প্রক্রিয়া সহজ করা।
তৃতীয়ত, অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দিয়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ।
দিনের শেষভাগে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তাঁর অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোই সফরের প্রথম দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বার্তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দালিয়ানে এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চীন সফরের মূল আলোচ্য বিষয়—তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা—নিয়ে পরবর্তী দিনগুলোর জন্য কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।






