ঢাকায় পুলিশের কঠোর অবস্থান, ঘটেনি অপ্রীতিকর ঘটনা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও কঠোর অবস্থান দেখা গেছে। তাদের এই অবস্থানের কারণে ঢাকাসহ সারাদেশে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ বলছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতার পরিকল্পনা রুখে দিতে পুরো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। ফলে দলটির নেতা-কর্মীরা কোথাও প্রকাশ্যে বড় ধরনের সমাবেশ বা শো-অফ করতে পারেননি।
রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো মহানগরীতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ঢাকার প্রবেশপথ, রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মোড়গুলোতে ২০০টিরও বেশি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে দিনভর তল্লাশি চালানো হয়। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি সক্রিয় ছিল এবং ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণ সীমিত করা হয়। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে নাশকতারোধে সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর ও মৌলভীবাজারসহ বেশ কিছু জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল দিয়েছে এবং মাদারীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পাঁচ শতাধিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সরকারকে বিব্রত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা সফলভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। নাশকতার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কায় আগের দিন থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, রমনা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলা থেকে আরও ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ফরিদপুর ও বরিশালে পুলিশি তাড়া ও হেফাজতে দুই আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যুর জেরে স্থানীয়ভাবে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি প্রতিহত করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টা অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদল এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিজয়নগরে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সমাবেশ করেছে। মাদারীপুরে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শহরের প্রধান সড়কে শোডাউন করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আশেপাশে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা। তবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণে বর্তমানে পুরো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনজীবন শান্ত রয়েছে।






