তারিখ লোড হচ্ছে...
স্বাধীন আলো

সত্যের পথে, মানুষের পাশে

Monday, 13 July 2026
ফিচার

তপ্ত বুকে আষাঢ়ের সজল পরশ

Debu Mallick  |  06 July 2026

গ্রীষ্মের দীর্ঘ দাবদাহ শেষে প্রকৃতি যখন চাতকের মতো বৃষ্টির অপেক্ষায়, তখন মেঘের গুরুগুরু ধ্বনি তুলে ধরা দিল আষাঢ়। তপ্ত মাটির বুকে শীতল জলের পরশ বুলিয়ে বর্ষা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, বাংলার ছয় ঋতুর আষাঢ় কেবল একটি মাস নয়; এটি প্রকৃতি, কৃষি ও সংস্কৃতির গভীর আবেগের নাম। সোমবার ২১ আষাঢ় দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভিজেছে যশোর।

বৃষ্টির ছন্দে জনজীবনে স্বস্তি

সকাল থেকেই যশোরের আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা। মাঝে মাঝে বজ্রধ্বনি আর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজেছে পুরো জেলা। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যশোরে প্রায় ৯ মিলিমিটার (০.৩৬ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে কিছুটা ভ্যাপসা গরম থাকলেও বৃষ্টির পর প্রকৃতিতে নেমে এসেছে স্বস্তি।

বৃষ্টির পেছনের কারণ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। একই সঙ্গে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে মৌসুমি অক্ষ। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এই সাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পই যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণ।

প্রকৃতিতে বর্ষার রূপ ও সুবাস

বর্ষার এই বৃষ্টিতে ধুলোবালি ধুয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। মাঠে-ঘাটে সবুজের সমারোহ, গাছের পাতায় নির্মল আভা আর বাতাসে কদম, কেতকী, কামিনী ও গন্ধরাজের সুবাস যেন বর্ষার আগমনী বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বৃষ্টির দিনে পাতার আড়ালে ফুটে থাকা গোলাকার কদম ফুল আবারও প্রকৃতিকে দিয়েছে এক নতুন রূপ।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বর্ষার আবেদন

আষাঢ়ের সঙ্গে বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মহাকবি কালিদাসের ‘মেঘদূত’ থেকে রবীন্দ্রনাথের ‘আবার এসেছে আষাঢ়, আকাশ ছেয়ে…’—বর্ষা যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকে সমৃদ্ধ করেছে। বৃষ্টির শব্দ আর মেঘের ডাক বাঙালির অনুভূতিতে সেই চিরন্তন আবেগকে আজও জাগিয়ে তোলে। শহুরে জীবনে জানালার পাশে বসে গরম চা, খিচুড়ি কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকেলে আড্ডা—বর্ষার এই নিজস্ব আবেদন আজ সোমবার যশোরেও মূর্ত হয়ে উঠেছিল।

কৃষি ও অর্থনীতিতে আষাঢ়

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য আষাঢ়ের বৃষ্টি শুধু নান্দনিকতাই নয়, অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। মৌসুমি বৃষ্টির পানি আমন ধান রোপণ, পুকুর-খাল-বিলের পানি সঞ্চয় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণে বড় ভূমিকা রাখে। এই বৃষ্টি কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়, যদিও অতিবৃষ্টির শঙ্কাও সবসময় বিদ্যমান থাকে।

প্রকৃতির এই সজীব রূপ ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষকে কিছুটা থামতে শেখায়। কংক্রিটের শহরের বাইরেও মাটির গন্ধ আর বৃষ্টির সুর যে এক অনন্ত পৃথিবী গড়ে দেয়, তা আজ আষাঢ়ের এই বৃষ্টি আবারও মনে করিয়ে দিল।

নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল

স্বাধীন আলো.com

আপনার এলাকার খবর জানান আপনি নিজেই!

যোগ দিন আমাদের "নাগরিক সাংবাদিকতা" গ্রুপে। আপনার চারপাশের সমস্যা, সম্ভাবনা বা জনদুর্ভোগের ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। আমরা হব আপনার কণ্ঠস্বর।

📧 info@shadhinalo.com🟢 WhatsApp: 01783057931
খবর পাঠান (হোয়াটসঅ্যাপ)