বিচার বিভাগে মামলার পাহাড়

দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালত মিলিয়ে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার বর্তমান চিত্র
আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলার পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ: ৩৮ হাজার ৭১৩টি (দেওয়ানি ২১,৬৫২ ও ফৌজদারি ১৭,০৬১)।
- হাইকোর্ট বিভাগ: ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি (দেওয়ানি ১,০১,১৬৮ ও ফৌজদারি ৪,২১,১৬৩)।
- অধস্তন আদালত: ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি (দেওয়ানি ১৬,৯০,৪৪৩ ও ফৌজদারি ২৩,৮৭,৯৮৯)।
অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগ এবং অধস্তন আদালত মিলিয়ে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি।
মন্ত্রী জানান, গত ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ মিলিয়ে মোট ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, গত এক বছরে অধস্তন আদালতে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মামলা জট কমাতে সরকারের উদ্যোগ
মামলার জট নিরসন ও বিচার কার্যক্রম গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান:
- বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
- ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
- জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগ অব্যাহত আছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত মামলার জট হ্রাস পাবে।






