মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে যশোরে এসিআই’র শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে না পেরে অবশেষে রাজপথে নেমেছেন যশোরের এসিআই সীড প্রসেসিং সেন্টারের হাজিরাভিত্তিক শ্রমিকরা। বুধবার সকাল থেকে সদর উপজেলার শানতলা-চুড়ামনকাটি এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তারা দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির বাজারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিস্থিতির শিকার হয়ে শ্রমিকরা আজ তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতিষ্ঠানটিতে হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে গেলেও মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। বর্তমানে দৈনিক ৯ ঘণ্টা পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা পারিশ্রমিক হিসেবে পান মাত্র ১৭৫ টাকা। বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এই সামান্য মজুরিতে পরিবারের ভরণপোষণ করা একজন শ্রমিকের জন্য অলীক কল্পনার মতো। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিটি অনেকবার মৌখিকভাবে জানালেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের এই বিশাল বৈষম্যের কারণে তারা আজ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়েছেন। তাদের দাবি, বাজারের বর্তমান দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ না করা হলে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
দীর্ঘ সময় প্রধান ফটকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলেও কর্তৃপক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কর্মস্থল থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ইনভেন্টরি অফিসার সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নামমাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানোর একটি মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে শ্রমিকরা সেই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট না হয়ে তাদের অন্যান্য দাবিগুলোও জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন। সাইদুর রহমান আরও জানান, শ্রমিকদের এই দাবির বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসকে প্রহসন হিসেবে দেখছেন। তাদের সাফ কথা, জীবনযাত্রার ব্যয় এখন যে অবস্থায়, তাতে ১০-১৫ টাকা মজুরি বাড়লে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি যৌক্তিক মজুরি কাঠামো তৈরি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষগুলোর এই আর্তনাদ ও ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সুশীল সমাজও কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটির নীতিনির্ধারকরা শ্রমিকদের এই দাবিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।






