যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানিবাজার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (ফোর্সড লেবার) ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্যসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপট ও তদন্ত
গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইউএসটিআর। সংস্থাটির অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী:
- আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক।
- কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
শুনানি ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
প্রস্তাবিত এই শুল্ক নিয়ে মঙ্গলবার ইউএসটিআর প্রকাশ্যে শুনানি করেছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন ও অংশীজনদের কাছ থেকে লিখিত মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এই শুনানি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ইউএসটিআর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত শুল্কের বিষয়টি ঘোষণা করা হবে।
বিজিএমইএ’র কঠোর অবস্থান
বাংলাদেশ সরকার এবং তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা শুরু থেকেই জোরপূর্বক শ্রমের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামাল ব্যবহারের কোনো নজির নেই। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কঠোর ‘কমপ্লায়েন্স’ ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।”
সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, সঠিক তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তদন্তে দেশের প্রতি ন্যায্য বিচার পাওয়া সম্ভব।
রপ্তানিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকদের বহন করতে হবে। এতে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ভারত, মেক্সিকো কিংবা মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মতো বিকল্প সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
উল্লেখ্য, জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা’ নিয়ে পৃথক তদন্তও চালাচ্ছে ইউএসটিআর। এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট শিল্পকে রাখা হয়েছে।






