যুদ্ধ পরিস্থিতি কমলেও বাড়ল এলএনজি আমদানি ব্যয়

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বেশি দামে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এই দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। এর আগে গত সপ্তাহে একই পরিমাণ এলএনজি আমদানির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে ৮২ কোটি টাকা।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আবারও বাড়ল কার্গোপ্রতি খরচ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রতি কার্গোর দাম প্রায় ৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়।
তবে গত সপ্তাহে এলএনজি আমদানির গড় ব্যয় কার্গোপ্রতি ৭০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও তা বেড়ে ৭০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিপি সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।
এর আগেও কয়েক দফা এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত
এর আগে ২৪ জুন সিঙ্গাপুরের অ্যারামকো ট্রেডিং ও গানভর সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে দুটি কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এছাড়া ১৭ জুন অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির সভায় তিন কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভাইটল এশিয়া, অ্যারামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ারের কাছ থেকে এসব এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এতে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা।
অর্থাৎ ওই সময়ে প্রতি কার্গোর গড় দাম ছিল ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এর আগে জুনের শুরু এবং মে মাসে যে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর গড় দাম আরও বেশি ছিল।
গম ও সার আমদানির অনুমোদন
এদিকে বুধবারের ক্রয় কমিটির সভায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সভায় কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭৫ হাজার টন এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ক্রয় কমিটি দেশের খাদ্য ও কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে এসব আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।






