রপ্তানি তথ্যে ৪ বিলিয়ন ডলারের গরমিল

রপ্তানি আয়ের ভুল পরিসংখ্যান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার দুই বছর পরও দেশের প্রধান দুই সরকারি সংস্থার তথ্যের ব্যবধান দূর হয়নি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পণ্য রপ্তানি তথ্যের মধ্যে এখনো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের (৪০০ কোটি ডলার) বড় ফারাক রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য এই তথ্য বিভ্রাট বড় উদ্বেগের বিষয়।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজ বলেন, “এখনও এত বড় ব্যবধান কেন থাকবে? এটি দ্রুত সমাধান করা দরকার। এ ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইপিবির হিসাবে এই সময়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৬ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, দুই সংস্থার হিসাবে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও দুই সংস্থার তথ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধান ছিল।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের তথ্যগত অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ার পর সরকার জানিয়েছিল, এ ধরনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এনবিআর, ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণেই এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “এত বড় ঘটনার পরও ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে ব্যবধান থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা, প্রণোদনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা বিভ্রান্ত হন।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে দেশের অর্থনৈতিক তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুসরণ করে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “৪ বিলিয়ন ডলারের এত বড় ব্যবধান থাকার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এনবিআর, ইপিবি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “এরপরও কেন ব্যবধান রয়ে গেছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে।”






