তারিখ লোড হচ্ছে...
স্বাধীন আলো

সত্যের পথে, মানুষের পাশে

Monday, 13 July 2026
জাতীয়

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, শক্তিশালী রিজার্ভ

Debu Mallick  |  01 July 2026

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে এই রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

মার্চে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আগস্টে ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন, সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন, অক্টোবরে ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন এবং নভেম্বরে ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার এসেছে।

ডিসেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন এবং মার্চে অর্থবছরের সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এপ্রিল মাসে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন, মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন এবং জুনে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবাহ

গত কয়েক অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

  • ২০২৫-২৬ অর্থবছর: ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৩-২৪ অর্থবছর: ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২২-২৩ অর্থবছর: ২১.৬১ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২১-২২ অর্থবছর: ২১.০৩ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২০-২১ অর্থবছর: ২৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার
  • ২০১৯-২০ অর্থবছর: ১৮.২০ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে সবচেয়ে বেশি

দেশভিত্তিক হিসাবে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটি থেকে এসেছে ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই তিন দেশ থেকে মোট ১৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন এবং মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নির্বাহ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই বৃদ্ধি শুধু পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, এটি দেশের অর্থনীতির সক্ষমতারও প্রতিফলন।

তিনি বলেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনা, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা এবং অবৈধ লেনদেনের বিরুদ্ধে নজরদারির কারণে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।

তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধারা ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল

স্বাধীন আলো.com

আপনার এলাকার খবর জানান আপনি নিজেই!

যোগ দিন আমাদের "নাগরিক সাংবাদিকতা" গ্রুপে। আপনার চারপাশের সমস্যা, সম্ভাবনা বা জনদুর্ভোগের ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। আমরা হব আপনার কণ্ঠস্বর।

📧 info@shadhinalo.com🟢 WhatsApp: 01783057931
খবর পাঠান (হোয়াটসঅ্যাপ)