লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কবলে সাধারণ মানুষ

দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলো সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার তথ্য দেওয়া হলেও বাজারের বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান: মে মাসের তুলনায় জুন কিছুটা স্থিতিশীল
সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত টানা তিন মাস ধরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- মে মাস: ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
- জুন মাস: ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
- এপ্রিল মাস: ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিসংখ্যানে সামান্য কমতি দেখা গেলেও সাধারণ ভোক্তারা এর কোনো কার্যকর প্রতিফলন বাজারে দেখতে পাচ্ছেন না।
খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দ্বৈত চাপ
বিবিএসের তথ্যমতে, জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, লবণ, মাছ, মাংস ও শাকসবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন।
বাজেট কাটছাঁটে দিশেহারা পরিবার
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে বাধ্য হয়ে বাজেট কাটছাঁট করছেন। অনেক পরিবার মাছ-মাংসের মতো পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে শুধু ন্যূনতম চাহিদার পণ্য কিনছে। এতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পুষ্টিবিদরা।
প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ছে মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর। বাজারে পণ্যের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সাধারণ মানুষের বেতন বা মজুরি সেই হারে বাড়েনি। এর ফলে নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মান ভয়াবহভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।






