সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণে ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প

গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই পাইলট প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা মাছের প্রাপ্যতা, আহরণ সম্ভাবনা এবং বাণিজ্যিকভাবে টেকসই মৎস্যশিল্প গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়।
মূল্যায়ন শেষে একটি মাত্র প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথভাবে দায়িত্ব পায় বাংলাদেশের সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি লিমিটেড।
নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দুটি টুনা আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে দুইটি টুনা মাছ ধরার জাহাজ ভাড়া করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ১২টি সমুদ্রযাত্রা পরিচালনা, টুনা ও সমজাতীয় মাছের প্রাপ্যতা নির্ধারণ, টেকসই ও লাভজনক টুনা শিল্প গড়ে তোলার জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা, একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং টুনা আহরণে নিয়োজিত জনশক্তিকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমা মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও গভীর সমুদ্রে টুনা আহরণের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা মাছের ব্যাপক বিচরণ রয়েছে এবং বিশ্ববাজারে এ মাছের চাহিদাও অত্যন্ত বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে টুনা ভিত্তিক নতুন মৎস্যশিল্প গড়ে উঠতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং দেশের নীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






