হামে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ৬৯৮; আক্রান্ত প্রায় লাখ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ জনে।একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৪৫ জন।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশে হামের এমন ব্যাপক সংক্রমণ নজিরবিহীন।আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯৬ হাজারস্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ জনে।
এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৪২ জনের শরীরে।মোট মৃত ৬৯৮ জনের মধ্যে ৯৩ জনের মৃত্যু ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৬০৫ জন মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। এ পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮০ হাজার ৪৯৭ জন রোগী। তাদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।বিভাগবিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হাম সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা বিভাগ।
এ বিভাগে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ১৫৫ জন এবং মারা গেছে ৩১৮ শিশু।রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বস্তিগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।জটিলতায় বাড়ছে শিশুমৃত্যুচিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালে আসা অনেক শিশুর ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ হাম নয়, বরং দেখা যাচ্ছে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব জটিলতার কারণেই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
অনেক পরিবার শুরুতে জ্বর, সর্দি বা সাধারণ অসুস্থতা মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।টিকার ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরাবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার সাময়িক সংকট এবং ২০২০ সালের পর বড় আকারের গণটিকাদান কার্যক্রম না হওয়ায় অনেক শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণগুলোই বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে আরও তীব্র করেছে।জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদারপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি-এর সহযোগিতায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে।৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিশেষ হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোর হাসপাতালেও বাড়ানো হয়েছে চিকিৎসা সুবিধা ও আইসোলেশন ব্যবস্থা।
অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বানস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া অথবা লালচে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে।






