হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হামের পরিস্থিতির অনুপাত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। তবে এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ৯৬৫ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯০২ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ৮৭৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২ জুলাই সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে ৭২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। বাকি ৬৩১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
একই সময়ে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ২৮৬ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত ও উপসর্গ আক্রান্ত মিলিয়ে ৮৬ হাজার ৪১১ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সময়মতো হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা বেশি দেখা দেয়। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।






