অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল: বেশিরভাগ অভিযোগই ভুল বোঝাবুঝি, বললেন প্রতিমন্ত্রী

জুন মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত অভিযোগের অধিকাংশই ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, সরকার প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানবিক ভুলের প্রমাণ মিললে তা অবশ্যই সংশোধন করা হবে।
সোমবার দুপুরে ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে অতিরিক্ত বিল ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস এম জিয়া-উল-আজিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেছি। অনেক গ্রাহক মে মাসের বিলের সঙ্গে এপ্রিল মাসের বিল তুলনা করছেন, কিন্তু গত বছরের একই সময়ের (জুন মাস) সঙ্গে তুলনা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিসাব মিলে যায়।”
তিনি অতিরিক্ত বিল আসার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণও তুলে ধরেন:
- নতুন ভাড়াটিয়া বাসায় ওঠার ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন।
- নতুন করে এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ফ্রিজ বা ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সংযোজন।
- গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত হিসাব সম্পর্কে তথ্যের অভাব।
প্রতিমন্ত্রী গ্রাহকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা ধরে নিচ্ছি মানুষ ভুল বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সমস্যা থাকতেই পারে। তাই গ্রাহকদের নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মিটার পরীক্ষা ও বিল পুনঃযাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” এছাড়া মিটার ভাড়ার বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্নগুলো সরকার পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আজ বিদ্যুৎ বিভাগ যে সংকটে নিমজ্জিত, সেটি আগের সরকারের ভুল নীতির ফল। মাত্র সাড়ে চার মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” তবে বর্তমান সরকার আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই ও দক্ষ করে তুলতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে, কোনো ধরণের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতি না করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।






