হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিস্তারিত: মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিন নম্বর অভিযোগে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ওই দুই অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছেন, সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে, ফলে তাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে আদালতের রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ মে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও আবদুস সোবহান তরফদার। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। পরে এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় ওই ঘটনায় ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
জাসদের প্রতিক্রিয়া: রায় ঘোষণার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাসদের নেতাকর্মীরা। তারা এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে মিছিল বের করে জাসদ।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় হাসানুল হক ইনু কোনো মন্ত্রী বা প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন না, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তারা অবিলম্বে এই রায় বাতিল ও ইনুর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।






