৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস

বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বাজেটের নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বাজেট কার্যকর হবে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।
বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ব্যয় ও রাজস্বের হিসাব:
- পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয়: ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি): ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
- রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।
এবারের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা-সংক্রান্ত জটিল বিধান বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর প্রস্তাবিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাজেট পরিসংখ্যান: আয় (বার) ও ব্যয় (পাই)
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নতুন এই বাজেট অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনা। তাদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সফলতার মূল মানদণ্ড হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।






