ইবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে গভীর রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নামে পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এসব পোস্টার লাগানো হয়, যা ঘিরে ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
কোথায় কোথায় পোস্টার?
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, ঝাল চত্বর, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং বিজ্ঞান অনুষদের প্রবেশপথসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারগুলো সাঁটানো হয়। পোস্টারগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি এবং শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মতো বক্তব্য দেখা যায়। তবে মঙ্গলবার দিনের আলো ফোটার আগেই অধিকাংশ পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
- ইবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
- ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।”
- ইবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “রাত প্রায় ৩টার দিকে ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা কর্মীদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বহিরাগতরা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।






