নড়াইল কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দির মৃত্যু

নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা (৫০) নামের এক নারী বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত লাইচ বেগম লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, লাইচ বেগম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত তার ওষুধ চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সম্প্রতি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে পুনরায় তাকে কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। রবিবার দুপুরে কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে মুসা খন্দকার নামের এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই লাইচ বেগম কারাগারে বন্দি ছিলেন।
নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।






