কর্ণফুলীতে নৌযানে বিস্ফোরণ: ২ নাবিকের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৪

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরার নৌযানে (ফিশিং ভেসেল) বিকট বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মো. রুবেল (৩২) ও শাহ আলম (৪০) নামে দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ হওয়া আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটের সাম্পান ঘাট এলাকায় এফভি দেশ নামের একটি মাছ ধরার জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দগ্ধ নাবিকদের তথ্যমতে, সোমবার বেলা দুইটার দিকে এফভি দেশ জাহাজটি নোঙর করে। মঙ্গলবার দুপুরে নৌযানের ইঞ্জিন কক্ষে রুটিন কাজ চলাকালীন হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাশে থাকা এফভি ডিজনি জাহাজে কর্মরত ডুবুরি ছিদ্দিক আহমেদ জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি ছিটকে পড়েন এবং আগুনের তীব্র তাপে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়। তিনি বলেন, “হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ হলো, এরপর দেখি চারপাশে শুধু আগুন আর আগুন।”
ঘটনায় ৬ জন নাবিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে:
- নিহত: মো. রুবেল (৩২) ও শাহ আলম (৪০)। (ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়)।
- আশঙ্কাজনক: ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম (২২)। তাঁর শরীরের শতভাগ পুড়ে যাওয়ায় তাঁকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
- চিকিৎসাধীন: ছিদ্দিক আহমেদ, নিজাম উদ্দিন ও মো. রাসেল। তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
নাবিকদের প্রাথমিক ধারণা, জেনারেটর কক্ষে কোনো কারণে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হওয়ায় এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছেন, যারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাঁদের সুস্থতা বিবেচনায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নৌযান মালিকপক্ষ ও প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

