খুলনা ও যশোরে সন্তানের হাতে বাবা-মায়ের রক্ত!

খুলনা ও যশোরে সন্তানদের বিরুদ্ধে বাবা-মাকে খুন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। খুলনায় মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বড় ছেলেকে রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত। আর যশোরের অভয়নগরে বৃদ্ধ পিতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
খুলনার খালিশপুরে হোমিও চিকিৎসকের মা মমতাজ পারভীন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার বড় ছেলে মাসুম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক আসাদুর জামান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইউসুফ আলী এবং খালিশপুর থানার জিআরও আ. মান্নান হাওলাদার আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন।
পুলিশ জানায়, মমতাজ পারভীনের বড় ছেলে মাসুম হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বের করার চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন সকাল ১০টার দিকে নিহত মমতাজ পারভীনের ছোট ছেলের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম মুনা তাকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে কাছে গেলে তিনি দেখতে পান, মমতাজ পারভীনের মুখ ফোলা এবং নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। এছাড়া তার ডান হাতের ছোট আঙুলের গোড়ায় দুটি কামড়ের চিহ্ন এবং ঘাড়ের বাম পাশে নখের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয় পুলিশ। পরে মামলা দায়েরের পর বড় ছেলে মাসুম হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অভয়নগরে বৃদ্ধ পিতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা
অন্যদিকে যশোরের অভয়নগরে বৃদ্ধ পিতাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলে মিন্টু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বৃদ্ধ আজগর আলী।
বুধবার উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী যশোর আদালতে এ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আজগর আলী একজন দরিদ্র কৃষক। দীর্ঘদিন কষ্ট করে ছেলে মিন্টু বিশ্বাসকে বড় করলেও বর্তমানে ছেলে তার ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খরচ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বসতভিটার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য মিন্টু বিভিন্ন সময় বাবাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখাতেন।
গত ২৫ জুন সকালে আজগর আলী খাবার খাওয়ার সময় মিন্টু আবারও জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বৃদ্ধের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মিন্টু হুমকি দিয়ে চলে যান।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আজগর আলী।






